Claim
ধানমন্ডি-৩২ নং বাড়ি ভাঙ্গার পর তার নিচে ৩০০ বছরের পুরনো শিবমূর্তি পাওয়া গেছে বলে একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই দাবিতে ব্যবহারকারীরা পোস্ট করে থাকেন। এই দাবিতে করা পোস্টগুলো দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
নিউজচেকার যাচাই করে দেখেছে দাবিটি মিথ্যা।
Fact
ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার পর সেখান থেকে ৩০০ বছর পুরনো একটি শিবলিঙ্গ মূর্তি উদ্ধার হয়েছে—এমন একটি দাবি সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে আমরা প্রথমে ভাইরাল পোস্টে সংযুক্ত শিবলিঙ্গের ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে পরীক্ষা করি। রিভার্স ইমেজ সার্চ থেকে জানা যায়, এই ছবিটি সম্প্রতি ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার সময় উদ্ধার করা হয়নি, বরং এর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বেশ আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যমান। আমরা এক্স (টুইটার), পিন্টারেস্ট এবং ফেসবুকে ২০২১ সাল থেকে এই ছবিটির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
এছাড়াও, Reddit-এ একই মূর্তি সংবলিত একটি ছবি পাওয়া যায়। সেখানে এই শিবলিঙ্গ মূর্তিটির নিচে লেখা ছিল “The Gudimallam Linga”।
এই নাম অনুসারে আরও কিছু প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করার পর আমরা The Print এ এই শিবলিঙ্গের ছবি সংবলিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শিবলিঙ্গটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের গুডিমাল্লাম গ্রামের পরশুরামেশ্বর মন্দিরের। প্রত্নতত্ত্ববিদ টি.পি. গোপিনাথ ১৯০৩ সালে এই মূর্তিটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন।
সুতরাং, একাধিক পোস্ট এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত যে, ভাইরাল হওয়া শিবলিঙ্গ মূর্তিটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভাঙা শুরু হওয়া ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়নি। বরং এটি তিনশ বছরেরও বেশি পুরনো একটি মূর্তি, যা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের গুডিমাল্লাম মন্দিরের সাথে সম্পর্কিত।
Result: False
যে কোন বিষয়ের সত্যতা জানতে, মতামত অথবা অভিযোগ প্রদানে আমাদের ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়- [email protected]. এছাড়াও ভিজিট করুন আমাদের Contact Us পেইজটি এবং নির্দিষ্ট ফর্মটি পূরণ করুন।